Sunday, 19 January 2025

বিবেক পত্রিকা -- দ্বিমাসিক সাহিত্য পত্রিকা--e সংস্করণ -- জানুয়ারী, ২০২৫

 বিবেক 

দ্বিমাসিক সাহিত্য পত্রিকা 

e সংস্করণ 

প্রকাশকাল : জানুয়ারী, ২০২৫


সম্পাদকের কলমে ✍️

আত্মহত্যা করতে দেখলাম মানবতাকে। উৎসবের আবেগে তছনছ হতে দেখলাম মানুষকে। শয়তানের পরিকল্পনার মতো স্বচ্ছ পদ্মার স্রোতস্বিনী জলধারা।

ধর্মের মুখোশে অধর্ম কতদিন দাপিয়ে বেড়াবে সভ্য সমাজে, সভ্যতার বুকে -- প্রশ্নচিহ্ন থেকে যায়। রাষ্ট্রযন্ত্রের কলকব্জায় মরচের মতো জাঁকিয়ে বসেছে ধর্মীয় মৌলবাদ। গনতান্ত্রিক পরিকাঠামোর ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছে ধর্মব্যবসায়ীরা। ধর্মীয় মৌলাবাদী সন্ত্রাসের বিশ্বায়ন শুধু সময়ের অপেক্ষা। অবৈধ ভ্রূণেদের দখলে আমাদের শুভচিন্তা,ভাবনা,ঐতিহ্য,আবেগ।

নষ্টভ্রূণের মতো গা ঢাকা দিতে দেখলাম প্রতিবাদকে।

******************************************

আমার দেশ

মৃন্ময় রায়


আমার ঘরটি ঐ বড় রাস্তার ধারে

ঝলমলে রঙ ছবির মতো লাগে

সামনে একটা ছোটো বাগান

রঙ বেরঙের ফুল কত যে ফোটে।


আমার দেশটি অন্ধকারে খোঁজে আলো

তার দুঃখে কার কি যায় আসে

হেথায় শাসন শোষন সবই চলে

রাজায় রাজায় যুদ্ধ কত যে ঘটে।


শিশির ভেজা পথ গেছে যে বেঁকে

নীল আকাশ সবুজ ধানের ক্ষেতে,

শ্বাসটা নিলাম অনেক দিনের পরে,

দেশটি আমার এই কথাটি মনে তখন আসে।


পথ দিয়ে যাই হেঁটে ফিরি আপন মনে

সব কিছু মোর যেন চির চেনা

মানুষ পশু পাখি আপনজনা,

দেশটা মোদের সবাই যেন ভালোবাসে।


**********************************

শেখর পাল এর তিনটি কবিতা 


গান 

যারে খুঁজে বেড়াই দিগন্তভেদি 

সে যে আমার চোখের আলে বসে 

চোখাচুখী হতে লাজে মরে...

লতিয়ে শিয়োর চুড়ে 

কেমন ভাবি এ ভাবনা 

ভাবের ফটক দ্বারে...

যারে খুঁজে বেড়াই...

দিগন্ত ভেদি ওরে...

সে যে ভাবের ফটক দ্বারে।।


সমাজ

ভালোবাসতে পারবো একথা বলছিনা 

ভালোবাসার আবেগ জন্মেছে অধিক 

তুমি কি ভরসা করতে পারবে...

যদি পার জায়গাটা ভরাট কর

সিঁথির সরণীতে প্রীতির প্রসাধনে

সৃষ্টি হোক তোমার আমার সমাজ।


প্রিয়ে

অর্ধশতাব্দীর পরে, দেখিনু তারে

বস্তু পরে পড়ে ছায়া।

সে নয়, সে নয়, নয় সে তো

আপন আড়ে দেহ

আপনি ভুলে আপন মায়ায়,

প্রিয়ে একি ভুল, তব দেখা

ঈর্ষা করে যে ছায়া--

আছো তাই হৃদয়পুরে।


*****************************************

শুভাকাঙ্ক্ষী 

নবীন সাউ 


অর্ণব আজি তটিনীতীরে 

গাহিতেছে গুরু গম্ভীর সুরে 

শৃঙ্গধরসম উদক লয়ে

পিঞ্জরে বরাঙ্গ লুটায়ে 

গর্জিছে শুভ ইচ্ছাশোকে

বৃহৎ এ নরলোকে জ্ঞাত নাহি কেউ 

মোর এ তরঙ্গিত তেজস্বী ঢেউ 

পারে করিতে নগর ধুলিস্যাৎ 

পলকে হইবে সক্কলে চিৎপাত 


নাহি চাই ধ্বংসাতে এ নগর 

দর্পে ব্যর্থ হইবে মোর স্বর

জীর্ণ বন্ধন হননে দক্ষ মোরবল 

 জ্ঞাতশারে.... অজ্ঞাত.... 

আজও এই নির্বোধ অধমের দল।


*****************************************

বিশ্বজিৎ মাইতি র দুটি কবিতা 


বন্ধুদের কবিতা

চৌরাস্তার মোড়ে যে বন্ধুকে চেঁচিয়ে ডাকলাম 

--সৌমেন কেমন আছিস?

সে আসলে দেবু।

চায়ের দোকানে দেবাশিস আমাকে বলল 

--এই মোটা, সিগারেট খাবি? 

আমি তো আসলে বিশু!


আমি ও আমার বন্ধুরা দেখা হলে, এইভাবে

হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের স্মৃতি উসকে নিই।


সাংসারিক 

তিনি ভেবেছিলেন আমার ঘোড়াশাল আছে--

মানে ঘোড়াশালে ঘোড়া আছে 

লাল,নীল,সাদা,কালো রঙের!


তিনি ভেবেছিলেন আমার হাতিশাল আছে!

হাতিশালে হাতি আছে

ছোটো,বড়ো,মাদি,মদ্দা 

হয়তো আমার একটি কুনকে হাতিও আছে!


তার মান রাখতে বাধ্য হয়ে ভিক্ষেয় বেরিয়েছি--

চারদিক ফলফুলের শোভায় ঝকমক করছে

চারদিকে সবুজ শস্য লুটোপুটি খাচ্ছে,

চারদিকে থই থই করছে আনন্দ!

দেখা হয়ে গেল দুই স্যাঙাতের সঙ্গে--

তাদের সঙ্গে বসে গঞ্জিকাতে সুখটান দিচ্ছি এখন...


*****************************************

অসহায় বাস্তব

ক্লান্ত পথিক 


 প্রায় একযুগ পর ফিরে এলো হারিয়ে যাওয়া মুখগুলো। ঘিরে ঘিরে বলে আবার দেখা হবে। চেনা পথে চলতে অভ্যস্ত হবার পর কবে আবার পথ ভুলে পৌঁছে যাব হারিয়ে যাওয়া ফেলে আসা অতীতে।

নতুন ভাবনার উদ্দীপনাগুলো যেখানে আজো বাসা বেঁধে আছে নতুনদের জন্য। পরিবর্তনের ডামাডোলে আজও তেমনি ভাবে আছে সৃষ্টির ভাবনাগুলো। তবু কেন বারে বারে মনে হয় হারিয়ে গেলাম,হারিয়ে যাব.......

 সান্ত্বনার প্রতিশব্দ শুধুই--- ভবিষ্যৎ।


******************************************

সাধারণ হতে 

কৃষ্ণেন্দু বিজুলী


চাইনি তো হতে আমি 

নামজাদা নামিদামী

চেয়েছি তো সাধারণ হতে।

তবু ও তো একধারে

ওরা অপর পারে 

মাঝে রহে মন্দাকিনী স্রোতে,

আশা আকাঙ্ক্ষা যত

কামনা যে অবিরত

ক্ষীয়মান চন্দ্রকলা সম।

চেয়েছি ওপারে যেতে 

সাধারণ জন পেতে 

তবু অপূর্ণ বাসনা মম।


*****************************************

 সঞ্জয় দাস এর দুটি কবিতা 


 অবসান 

 একান্তে সময় কাটায় স্মৃতিরা 

 অবাধ্য চিন্তারা উৎসমুখে

 ফিরে ফিরে চায়।

 কথা দিয়ে কথারা মুখ ফেরায়।

 দেখা হবে ভেবে ভেবে 

 দেখে যাই তোমার ফেরার রাস্তায়।

 সব কল্পনার অবসান ঘটিয়ে

 তুমি ফেরো শব্দহীন।

 নিঃশব্দে নীরবে কফিনবন্দি।


বধ্যভূমি 

আজ নয়

অন্য এক বিকেলে

গল্পের ভীড়ে 

অজানা হাতে

রেখো হাত।


জোনাকির আলোয়

আগুন মেখে

সামনে দাঁড়াও।


রঙিন আবিরে

বাতাস ভিজুক

শূন্যতায় ছুঁড়ে দাও একবার--

অহংকার!


মোমবাতি জ্বেলে রাখি

বিশ্বাসের বধ্যভূমিতে।


#####################################

সম্পাদকীয় ঠিকানা------:

সঞ্জয় দাস,

সম্পাদক - বিবেক পত্রিকা,

গ্রাম ও পোস্ট-- গড়বাড়ী,

থানা—ভূপতিনগর,

জেলা--পূর্ব মেদিনীপুর,

পিন-- 721 626,

পশ্চিমবঙ্গ,

ভারতবর্ষ

Email--- sanjoybibek@gmail.com

Blog--- www.bibekpatrika.blogspot.com


*****পরবর্তী সংখ্যার জন্য আপনার স্বরচিত কবিতা, গল্প, রম্যরচনা, অনুগল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ পাঠান সম্পাদকীয় ঠিকানায়| email -এও লেখা পাঠাতে পারেন|


======================================





Friday, 15 April 2022

বিবেক * মাসিক সাহিত্য পত্রিকা * একাদশ বর্ষ, প্রথম সংখ্যা * প্রকাশকাল : এপ্রিল, 2022

বিবেক
 [ মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ]
 প্রকাশকালঃ এপ্রিল, 2022
 একাদশ বর্ষ, প্রথম সংখ্যা


 সম্পাদকীয়
 বন্ধু,
        আজ তোমার স্বদেশে ঘুরে এলাম| ঔপনিবেশিক শাসনের রূপরেখা স্বচক্ষে দেখে এলাম| একটা দেশের মধ্যে আরেকটা দেশ দম্ভ নিয়ে বসে থাকে| পতপত করে উড়তে দেখলাম ঔপনিবেশিকতার কালোপতাকা| অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে জেনেও অন্ধ হয়ে বসে থাকতে দেখলাম নীতি নির্ধারকদের| তোমাদের স্বদেশপ্রেম আবেগেই সীমাবদ্ধ হয়ে থাকতে দেখলাম| মুক্তি দিবসের মঞ্চে শৌর্য্য প্রদর্শনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে দেখলাম স্বদেশপ্রেমকে|
 বন্ধু, আমি স্বজাতিপ্রীতির আকাঙ্ক্ষা দেখেছি গদর বন্দরের সদ্য যৌবন প্রাপ্তির পথে এগোনো এক কিশোরীর চোখে| স্বদেশ প্রেমের নিদর্শন প্রতিনিয়ত চাক্ষুস করছি কাবুলের অলি,গলিতে, রাজসড়কে | দেশে ফেরার আকুল আর্তি দেখেছি জর্ডনের রিফিউজি ক্যাম্পে বসে থাকা সিরিয় তরুণের চোখে|
বন্ধু, সময় থাকতে জেগে ওঠো, জাগিয়ে তোলো তোমার স্বজাতিকে|
                               -------সঞ্জয় দাস




শেখর পাল -এর দুটি কবিতা

 মেঘে ঢাকা

 শীতের সমাহার
 দিগন্ত বিহার|
তরল শরীরে গুটি,
বসন্তের প্রভাব|
কি অপূর্ব স্নিগ্ধ
জ্বালানির ভান্ডার|
যৌবনের অগ্নিশিখায়
নেই উত্তাপ|


 সংঘাত

বৃহৎ গণতন্ত্রে লেগেছে আগুন, মাঝে মাঝে পোড়া
পোড়া গন্ধ, আকাশে বাতাসে সন্দেহ সাম্যবাদ,
অসাম্যের পালে ধরিয়েছে পশ্চিমী হাওয়া
পুঁজিবাদ কৌশলে দিচ্ছে ডাক, অহিংসা,
অর্থনীতি নিপাত যাক|
যারা একদিন গেয়েছিল কিছু সাম্যের গান,
সাধারণ পীড়িত মানুষের কণ্ঠে হয়েছিল
উচ্চারিত প্রতিধ্বনি
আজ তারা ছদ্মবেশী মুখোশধারী শোষক
কৌশলে ডেকে যায় অসাম্যের বাণ
আর নয় শ্রমিক-কৃষক, মাঝি-মোল্লা ভাই,
ফিরে দেখো কুল ছেড়ে, বহুদূরে গেছ চলে
আকাশে জমেছে মেঘ, বাতাসে গুমোটে ভাব
কুলে ফেরাও তরী
জীবন সংঘাত|
                        [ লং মার্চ কাব্যগ্রন্থ, 2012]



 সহস্রদল পদ্ম

 বিশ্বজিৎ মাইতি

চিরঞ্জীব, এমনভাবে কল্পনা করল
জ্যোৎস্নায় হিজলের ছায়া এসে পড়ল
ভাসমান নৌকাটির উপর|
সেই কল্পনার উপর ভর করেই
চারপাশে বইতে লাগল
সহস্রদল পদ্মের সুগন্ধি হাওয়া|



ঢেউ

মদন কুমার

স্তম্ভিত পৃথিবী, যেই করলে সচল
ঠিক তখনি--উছলে পড়া ঢেউ|
ঢেউ এসেছে ইগোর সাথে ইগোর
বারুদ ছাড়া নেই তাতে আর কেউ|

কার দম্ভ কতখানি আছে
তাই দেখাতে মরিয়া এখন সবে|
ছাত্র-যৌবন মৃত্যুর কোলে ঢলে,
কেউ জানেনা শান্ত কবে হবে|

চুম্বন দিয়ে যুদ্ধে যাওয়া প্রেমিক
সে তো আর প্রেমিক শুধু নয়,
স্বাধীন হওয়ার বারুদ গায়ে মেখে
দেশের জন্য সে-ও শহীদ হয়|

স্তব্ধতা সারা শহর জুড়ে,
নিস্তব্ধতা তোমার-আমার ঘরে|
বিপ্লব হোক সবার মনের মাঝে|
বিপ্লব হোক শান্তি সুখের তরে|



 মানিক দেবনাথ -এর দুটি কবিতা

বিকেলের কবিতা 5

তুমি অল্প হয়ে আছো
আমার ভাবতে থাকার নেশায়,
শুকনো পাতার আওয়াজ
আমায় প্রেমালাপে মেশায়|
তুমি হয়তো নদীর চরে
ঢেউ বোলাবে গভীর,
আমি রাত পেরিয়ে শীতল
পোড়ামাটির নিবিড় |
তুমি আকাশ হয়েছো উড়ে
আমি শেকল বাধিনি সুতোয়
জানি কতটা রয়েছ জুড়ে
আমার ভুল সময়ের ছুতোয়||


দেহ 31

তোর দুচোখে স্বপ্ন এঁকে
নিচ্ছি আমি একটু দেখে,
ইচ্ছে করে করছি চুরি
সময় ঘড়ির দিব্যি মেখে|
তোর সোহাগের আঁতুড়ঘরে
সোনার সাগর মিলছে ভোরে,
পা গুটিয়ে ভিজছে আঙুল
আগুন জেলে তোর শহরে|



 সেদিন শহরে

 প্রভঞ্জন সাহু

এই নিয়ন আলোর শহর হতে পারত আমার|
এই রাস্তা ঢাকা তারা হতে পারতো শুধু আমাদের|
এই ভিড়ের নির্জনতা আর খামখেয়ালি আমজনতার,
হাজার গল্পের নায়ক নায়িকা হতে পারতাম আমরা|
হলো না কিছুই|

খুটিতে বাধা চাঁদের মত ল্যাম্পপোস্টের আলোয়,
তারের ছায়া গায়ে মেখে,
হাঁটতে পারতাম|
হাঁটতাম আর চাইতাম তোর চোখে,
ঠোঁটে আগামীর জল্পনা এঁকে|
হলোনা সে পথ চলা|
না হলো কিছুই বলা|

এলে তারা খসার পালা,
নিয়ে সাধ পূরণের ডালা,
তারে করতাম হেলখেলা,
তোর হাতে হাত রেখে,
সেদিন নিকষ রাতে,
এই শহরের কোন ছাতে|

হলো না কিছুই,
শুধু খসলো অনেক তারা,
আড়চোখে চেয়ে আমার দিকে|
এখন তাদের পালা|



কালের কালিমা

ডাঃ যুগলকিশোর মন্ডল

অনেক আগের কথা|
শুনেছিলাম কৈশোরে
যৌবনের উপবনের পরে,
বার্ধক্যের বারাণসীতেও
শুনে চলেছি…….|
ভুখা পেটের কান্নার ইতিহাস|
বর্মপরা সামাজিক খোলসে -
অস্ফুট আর্তনাদ গুমরে গুমরে
তলপেট থেকে আরও নীচে|

একপাশে হৈ -চৈ……
অন্যপাশে গর্ভধারীনির নির্জলা উপবাস|
ধরণীর বুকে বিবস্ত্র নারী
জায়া বা জননী নয়,
ভোগের পাত্রতে প্রধান নৈবেদ্য|
প্রতিকারহীন স্বামীরা নিঃশব্দ!

আসামীর নাম ঘুচাতে…….
নিরুদ্দেশে নাম বদলে ব্যবসায়ী|
পরিচয় গোপন করে
পুত্রগণ নিজেদের মতন
অলক্ষ্যের আতর গন্ধে
ভোমরাসম মধুর চাকের দিকে|
ভালোবাসার দাম কানাকড়িও নয়
সম্পর্ক এখন মুদ্রাদেবীর দিকে|

ঘুমের রানী রাত্রি?
একাকিনী উলঙ্গ পথে
খড়্গ হাতে মহাকালী|

দ্বন্দ্ব মেটাতে - দ্বন্দ্ব আসছে
সর্বহারার দল লম্বা মিছিলে|
মূল্যবোধের সময় কারোর নেই!

সংকট - ধ্বংস –
একদিন ইতিহাস হবে|



বিষবাষ্প

 সঞ্জয় দাস

অসহ্য দিন|
ক্লান্তি চেপে ধরে
মনের শিয়রে|
কুয়াশায় আচ্ছন্ন মানসপট|
দিনের আলো ফুরিয়ে যায়
স্বাভাবিক ছন্দে|
সন্ধ্যে নামে আকাশে|
নিকষ কালো অন্ধকার নিয়ে
দিব্যি কেটে যায় দিনগুলি|
আধো আলোতে
অবয়ব ফুটে ওঠে তোমার|
বাতাসে বিষ জেনেও
প্রেমের পসরা সাজিয়ে বসি|
অহেতুক আগন্তুকদের
চোখরাঙানি সয়ে যায়---
নির্বিষ ভ্রূণেরা|
বুক চিতিয়ে হজম করি---
অতর্কিত আঘাত|
গর্ভে শান্তিতে ঘুমোয় ভ্রূণেরা|



নিশ্চুপ

কৃষ্ণেন্দু বিজুলী

নিশ্চুপ থাকি,তাই
ভেবোনা কিছু জানিনা এমনটা|
অপছন্দ আমার উলুবনে ছড়ানো মুক্তা|
চুপচাপ থাকি তাই যদি ভাবো,
কিছুই পারিনা দিতে শিক্ষা|
তবে ভুল ভাবো
জেনে রাখো
করি সময়ের প্রতীক্ষা|
নিশ্চুপ দেখে যদি মনে করো
কিছুই বলতে পারিনা|
তবে জেনে রাখা ভালো বৃথা তর্ক করিনা|
নিশ্চুপ দেখে যদি ভাবনায় আসে
অযোগ্য কিংবা যোগ্যতাহীন|
তবে জানিয়ে দিই ব্যক্তিত্ব আমার
পরনিন্দা পরচর্চাবিহীন|
আমি চুপ থাকি
তাই যদি ভাবো
বালকের মতো অপরিণত|
অশান্তি গোলমাল ঠেলে পাব,
চুপ তাই নীরবে শান্তি যত|



শূন্য

ক্লান্ত পথিক

শূন্য বৃত্তে একলা দাঁড়ি ঘুরে আসে বার বার -
             বিরামহীন যাত্রা নিয়ে|
শূন্য বৃত্তে একলা মানুষ ভাঙছে গড়ছে নিত্য,
             নিত্য নতুন ছন্দ তুলে|
শূন্য বৃত্তে একলা জ্যোতি ভাঙছে আবার-
             মিলছে কেমন সময় মেনে|
শূন্য শুধু শূন্য আজ,
               যোগ-বিয়োগের মাঝখানে |



 সম্পাদকীয় ঠিকানা------:
সঞ্জয় দাস,
সম্পাদক - বিবেক পত্রিকা,
গ্রাম ও পোস্ট-- গড়বাড়ী,
থানা—ভূপতিনগর,
জেলা--পূর্ব মেদিনীপুর,
পিন-- 721 626,
পশ্চিমবঙ্গ,
ভারতবর্ষ
Email--- sanjoybibek@gmail.com
Blog--- www.bibekpatrika.blogspot.com

 প্রচ্ছদ -- - শিহরেন্দু ভূঞ্যা

*****পরবর্তী সংখ্যার জন্য আপনার স্বরচিত কবিতা, গল্প, রম্যরচনা, অনুগল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ পাঠান সম্পাদকীয় ঠিকানায়| ই-মেল -এও লেখা পাঠাতে পারেন|

Thursday, 14 April 2022

অস্তে উদয় - শেখর পাল

অস্তে উদয়
 শেখর পাল
হঠাৎ নীল আকাশটা
ঘোলাটে হয়ে এলো
দক্ষিণের মুক্ত বাতাসটা
থমকে দাঁড়ালো|
মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এলো
একটা অগ্নিপিণ্ড
ক্ষনিকে পুড়ে ছাই
হলো ভূখন্ড|
হন্নি হয়ে ছুটে চলল
আকাশের দিকে বহ্নিশিখা|
তারপর অসহ্য যন্ত্রণার
নাগপাশে জড়িয়ে পড়ল জীবজগৎ|
প্রকৃতি হারালো নিয়ন্ত্রণ
প্রজন্ম নিয়ে এলো
ল্যাংড়া খোঁড়া বোবা শিশুর কান্না|
বিংশ শতাব্দীর দরজাটা
বন্ধ হল বিজ্ঞানের আলোয়|
ঝলসে গেল পৃথিবীটা
উদয় অস্ত গেল মানব সভ্যতা|

Saturday, 17 March 2018

বিবর্তন

     ক্লান্ত পথিক


সৃষ্টিছাড়ার সৃষ্টি
ছন্নছাড়া জীবনে ছন্দ আনে
ঠায় থেকে দ্রুতলয়ে
                    ধাপে ধাপে ৷
যুক্তির বৃত্তে সবাই থাকলেও
বৃত্তের বাইরে বিতর্ক,
সংঘর্ষের সমাধানে
                    কেবলই লয় ৷
পুনরাবৃত্তির ঐতিহ্যে
ফিরে দেখা পুরাতনকে,
কূলহীন নোনাজলে
ডুব দেবার মিথ্যা চেষ্টা ৷

দুঃসময়

     বিষ্ণুপদ ভূঞাঁ


মানবিকতার কাচ রক্তে রাঙা
বর্বরতা শান দেয় ছুরিতে
মনুষ্যত্ব রুদ্ধশ্বাসে ধাবিত
মিথ্যার বেড়াজালে সত্যের ছটপটানি
'সততাই একমাত্র মূলধন'
নিছক সাইনবোর্ডটি তিরস্কৃত
তবু আঁকড়ে ধরে
হাড় জির্‌জিরে দেওয়ালটিকে
চটকদারির রং ফিকে
মুখের দৌড়ে চটে না
'চকচক করলেই সোনা নয়'
হাত ধরে চলে শঠতা, ভণ্ডামি
তাই ভালোবাসা আশাহত
অপেক্ষায় সময় ভারাক্রান্ত
দিনের পরে রাত
রাতের পরে দিন
আহত, ক্ষতবিক্ষত
এগিয়ে চলে সময় সারণী
আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা ধোঁয়ার কুণ্ডলী
পৃথিবীর রক্ত হয় নীল ৷ 

Thursday, 8 March 2018

ঠিকানা

  বুদ্ধদেব দাস


মুশকিল কি, তোমার ঠিকানা খুঁজে পাওয়া
নীল আকাশের তলে---
ধুলো মাখা পৃথিবীর বুকে ৷
হেঁটে চলেছি আমি
চলেছি হেঁটে তোমার খোঁজে ৷
কোথা আছো,
আছো কোথা ?
গন্ধ ভরা ফুলের বুকে, নাকি
সবুজ গাছে পাখির নীড়ে ?
হারিয়ে গেছি আমি
মৌ-ফুলেদের ভীড়ে ৷